এটি মা এবং পরিবারের সবার জন্য খুব বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। কিন্তু অনেক বার, কোন নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায়না।
প্রতিটি গর্ভাবস্থায়, শিশুর মৃত্যুর 1: 200 ঝুঁকি থাকে (যদি 200 মহিলা গর্ভবতী হন, তবে কোনও কারণ ছাড়াই তার মধ্যে একজনের ডেলিভারির আগে সন্তান মারা যেতে পারে)।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কারণ হল, শিশুর সঠিকভাবে বৃদ্ধি না হওয়া। অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে সংক্রমণ, শিশুর জন্মগত ত্রুটি, ডায়াবেটিস, প্ল্যাসেন্টা আগে থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া, APLA সিন্ড্রোম (এন্টি ফসফো লিপিড অ্যান্টিবডি সিন্ড্রোম যেখানে রক্ত জমাট বেঁধে যায় আর শিশুকে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়) এবং প্রি-একচেম্পিয়া (উচ্চ রক্তচাপ এবং পপ্রস্রাবের সাথে প্রোটিন বেরোনো)।
যদি কোনও কারণ পাওয়া যায়, তবে একই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে ভবিষ্যতে গর্ভাবস্থায় যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি সাহায্য করতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, পরীক্ষা সত্ত্বেও, কখনও কখনও শিশুর মৃত্যু ব্যাখ্যা করা যায়না। এমনকি সে ক্ষেত্রেও, পরবর্তী গর্ভাবস্থায় সুস্থ শিশুর জন্ম হওয়ার সুযোগ খুব বেশি।
1. রক্ত পরীক্ষা - আপনার লিভার বা কিডনি, থাইরয়েড সমস্যা বা ডায়াবেটিস, সংক্রমণ, APLA সিন্ড্রোম ইত্যাদি অবস্থার সন্ধানে পরীক্ষা।
2. কোনও সংক্রমণের সন্দেহ থাকলে, অবিলম্বে ডেলিভারির পরে, আপনার যোনি, সার্ভিক্স এবং প্ল্যাসেন্টা এবং আপনার শিশুর কাছ থেকে swabs সংগ্ৰহ করা হতে পারে।
3. আপনার সন্তানের ক্রোমোসোমের পরীক্ষা, (রক্তের নমুনা বা ত্বক / পেশীর নমুনা থেকে) আপনার সম্মতি নিয়েই করা হবে। শিশুর মধ্যে ক্রোমোসোমাল ত্রুটি থাকলে, আপনার এবং আপনার স্বামীর পরীক্ষা করা হতে পারে।
4. আপনার শিশুর এবং প্লেসেন্টার জন্য একটি পোস্টমর্টেম পরীক্ষা, যা আপনার ইচ্ছামত সীমিত বা বিস্তারিত হতে পারে। একটি পোস্টমর্টেম পরীক্ষা আপনার শিশুর মৃত্যুর উপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে পারে। আপনি এই পরীক্ষা চান বা না চান কিনা তা নির্ধারণ করার সম্পূর্ণ অধিকার আপনার আছে।
5. পোস্টমর্টেম পরীক্ষা ছাড়াও আপনার প্লাসেন্টার বিস্তারিত পরীক্ষা.
কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। খুব শীঘ্র এবং দেরী করে প্রেগন্যান্সি নেওয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আপনার বয়সের কথা মনে রাখতে হবে। আপনি এবং আপনার স্বামী শারীরিক এবং মানসিকভাবে যখন উপযুক্ত মনে করবেন তখনই আপনি পরবর্তী গর্ভাবস্থার জন্য পরিকল্পনা করতে পারেন।
কারণ খুঁজে পাওয়া গেলে, এটির সংশোধন করার জন্য প্রচেষ্টা করা হবে (যেমন সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড সমস্যা, APLA সিন্ড্রোম ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা)। কোন কারণ খুঁজে পাওয়া না গেলে ননিয়মিত পর্যবেক্ষণ এর পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতিটি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য করা নিয়মিত পরীক্ষার পাশাপাশি, জিডিএম (জেস্টেশানাল ডায়াবেটিস মেলিটাস) এবং কালার ডপলারের সাথে নিয়মিত গ্রোথ স্ক্যান চেক করা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর নড়াচড়া খেয়াল করা উচিত।
তার আগের গর্ভাবস্থায়, 2 বছর আগে, এই দুর্ভাগ্যজনক মা 35 সপ্তাহে, ডেলিভারির আগেই (আইইউএফডি) তাঁর সন্তানকে হারিয়েছিলেন। সে সময় ইউপি তে তাঁর সিজারিয়ান সেকশন হয়েছিল।তিনি আমাদের কাছে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে পরের বারে গর্ভাবস্থায় তৃতীয় নাসে, 2018 এ আসেন। কিন্তু তিনি ইতিমধ্যেই গর্ভবতী ছিলেন, তাই আমরা অনেক পরীক্ষা করতে পারিনি। আমরা শুধুমাত্র পূর্ববর্তী পরীক্ষার রিপোর্টের পর্যালোচনা করি। আমরা তাঁকে আশ্বাস দিলাম যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় না।
সুতরাং, আমরা নিয়মিত চেক আপ এবং পর্যবেক্ষনের পরামর্শ দিলাম।
আমরা তাঁর হাইপোথাইরয়েডিজম পেয়েছি, তাই এল-থাইরকসিন 50 এমসিজি শুরু করতে বললাম।
আমরা 75 গ্রাম গ্লুকোজ দিয়ে OGTT (মৌখিক গ্লুকোজ সহনশীলতার পরীক্ষা) দ্বারা রক্ত পরীক্ষা করে তাঁর জিডিএম (জেস্টেশানাল ডায়াবেটিস মেলিটাস) পেলাম। এটা অবশ্য ডায়েটিং এর দ্বারাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। রেনাল, রেটিনাল চেক আপ করা হয়। নিয়মিত সুগার চেক করে হয়।
আগ্রহজনকভাবে, ভারতীয় মহিলাদের জিডিএম এর ঝুঁকি বেশি। জিডিএম, "SUDDEN UNLEPLAINED FETAL DEATH" এর একটি উল্লেখযোগ্য কারণ।
আমরা তার সাথে "এমপিরিকাল চিকিত্সা" (যার সুবিধা কতটা ঠিক জানা নেই তবে, সাধারণত ক্ষতিকারক নয়), নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করলাম- কম ডোজ অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট (75 মিগ্রা / দিন) এবং হেপারিন ইঞ্জেকশন (LMWH) - এনক্সাপারিন 40 মিগ্রা / দিন)। সাধারণত আমরা APLA সনাক্ত করলে এই চিকিৎসা দিয়ে থাকি। একজন মহিলা গর্ভবতী না হলে APLA পরীক্ষা করা উচিত। তিনি আমাদের কাছে গর্ভাবস্থায় এসেছিলেন, তাই আমরা এর পরীক্ষা করতে পারিনি। তাই এই চিকিৎসার সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করার পর, তিনি এই চিকিত্সা করার জন্য রাজি হন।
গর্ভাবস্থায় করা সমস্ত রুটিন পরীক্ষা (কম্বাইন্ড টেস্ট, Anomaly স্ক্যান ইত্যাদি) করা হয়। RCOG সুপারিশ অনুযায়ী, আমরা তাঁকে নিয়মিত গ্রোথ স্ক্যান এবং কালার ডপলার সহ আল্ট্রাসাউন্ড করতে (শিশুর রক্ত প্রবাহ দেখতে) পরামর্শ দিয়েছি। এর ফলাফল স্বাভাবিক ছিল।
পূর্ববর্তী সময়ে শিশুর মৃত্যু 35 সপ্তাহে হয়েছিল এবং এই সময় তিনি GDM ছিল, আমরা 35 সপ্তাহে পরিকল্পিত ভাবে অপরিণত শিশুর ডেলিভারির সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করি। আমরা নিঅন্যাটোলজিস্টের সাথে আলোচনা করে NICU সেট আপ এ ডেলিভারির কথা বলি। তিনি 35 সপ্তাহে প্রসবের জন্য এগিয়ে যেতে সম্মত হন।
সময়ের আগে ডেলিভারির কারণে শিশুর শ্বাসকষ্ট-এর ঝুঁকি হ্রাস করতে শিশুর ফুসফুসের পরিপক্কতা বৃদ্ধির জন্য স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।
অবশেষে ডেলিভারি সম্পন্ন হয়। বাচ্চার ওজন 2.3 কেজি ছিল এবং সে জন্মের সময় কেঁদেছিল, এনআইসিইউর প্রয়োজন হয়নি (মায়ের সাথে ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল)।
মায়ের অবস্থা ভালই ছিল, রক্তের সুগার ও এখন স্বাভাবিক।
বি: দ্র:-ছবিটি তাঁর থেকে বিশেষ ধরনের অনুমতি নিয়ে প্রকাশিত
Book an appointment with the top
Gynecologist/Obstetrician near you.